“নিরাপদ খাদ্য” শব্দ দুটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাজা শাকসবজি, বিশুদ্ধ দুধ, এবং রাসায়নিকমুক্ত ফল। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও, খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দিনদিন বেড়েই চলেছে। বাজারের অধিকাংশ খাদ্যপণ্যে ভেজাল, ফরমালিন, ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং কৃমিনাশকের উপস্থিতি আমাদের অজান্তেই আমাদের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটেই জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়। প্রতি বছর ২রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এই দিবসটি পালন করা হয় ③। অন্যদিকে, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালিত হয় ৭ই জুন, যার লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ①।
আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা জানবো, নিরাপদ খাদ্য দিবস বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ, এর ইতিহাস, লক্ষ্য, আইনগত দিক এবং আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের উপায়।
নিরাপদ খাদ্য দিবস কী এবং এর ইতিহাস
নিরাপদ খাদ্য দিবস মূলত দুটি স্বতন্ত্র ধারায় পালিত হয় একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং অন্যটি জাতীয় পর্যায়ে।
বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) যৌথ উদ্যোগে ২০১৮ সালের ২০শে ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৭ই জুনকে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে । এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো খাদ্যজনিত রোগ প্রতিরোধ এবং সারা বিশ্বে নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। ২০২৫ সালের এই দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলো “খাদ্য নিরাপত্তা: বিজ্ঞানের কর্মকাণ্ড”, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেয় ।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস
বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয় ২রা ফেব্রুয়ারি। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো এই দিবসটি পালন করা শুরু হয় । এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA)-এর নিরলস প্রচেষ্টা। দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল “খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ” । সম্প্রতি ২০২৬ সালে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি” ④। এই দিবস পালনের মাধ্যমে সরকার জনগণের মাঝে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
নিরাপদ খাদ্য বলতে আমরা কী বুঝি?
সাধারণ অর্থে, নিরাপদ খাদ্য হলো সেই খাদ্য যা গ্রহণ করলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না; বরং তা শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর নিরাপদ খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বোঝানো হয়েছে যা— প্রাকৃতিক, কৃত্রিম বা রাসায়নিক দূষণমুক্ত, ভেজালমুক্ত, পুষ্টিগত মানসম্পন্ন, ক্ষতিকর পদার্থ বা জীবাণু মুক্ত, এবং মেয়াদোত্তীর্ণ নয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) গঠিত হয়েছে এই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। কর্তৃপক্ষটি আমেরিকান খাদ্য এবং ড্রাগ প্রশাসন (FDA)-এর মতো করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
উত্তর: সরাসরি আবেদনের জন্য সরকারের জাতীয় ই-সেবা পোর্টাল বা BFSA নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে bfsa.gov.bd সাইট থেকে বিভিন্ন ফরম ও নোটিশ ডাউনলোড করতে পারবেন ।
উত্তর: হ্যাঁ, যদি আপনি বাণিজ্যিকভাবে খাদ্য বিক্রি করেন এবং তা অনলাইন বা অফলাইনে সরবরাহ করেন, তবে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স নিতে হবে।
উত্তর: সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং মামলার বিধান রয়েছে।
উত্তর: সাধারণত ১ বছর। তবে নীতিমালা পরিবর্তন সাপেক্ষে তা ২-৩ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
উত্তর: ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।